WIKI KOLKATA

ধাপে ধাপে সর্বনাশ ! আপনি ও হতে পারেন এই স্ক্যামের স্বীকার ?

4.64K খবরে কলকাতা 1 year ago

কয়েক সপ্তাহ আগের কথা। লেক রোডের এক বাসিন্দার কাছে অনলাইন, পার্ট-টাইম কাজ সংক্রান্ত একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ আসে অচেনা নম্বর থেকে। সঙ্গে দুটি ইউটিউব ভিডিওর লিঙ্ক, যে দুটিতে লাইক দিলেই তাঁকে দেওয়া হবে ১০০ টাকা। অর্থাৎ, লাইক পিছু ৫০ টাকা। বলা হয়, এটাই তাঁর ‘টাস্ক’।

নির্দেশমতো দুটি ভিডিওতে লাইক দিয়ে প্রমাণস্বরূপ স্ক্রিনশট পাঠিয়ে দেন অভিযোগকারী। তাঁকে যে মেসেজ করেছিল, সেই ব্যক্তি এবার তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর চেয়ে নিয়ে সেখানে ১০০ টাকা জমা করে দেয়। এরপর তাঁকে বলা হয় টেলিগ্রাম-এ ‘কেরিয়ার বিল্ডার্স’ নামের একটি গ্রুপে জয়েন করতে, যেখান থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে এক ব্যক্তি জানায়, ‘টরাস’ নামক ‘ক্রিপ্টো ট্রেডিং’ অ্যাপে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে তাঁকে।

ক্রিপ্টো-তে প্রথমে এক হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে বলা হয় তাঁকে। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, এর ওপর তিনি কমিশন পাবেন ৩০ শতাংশ। বাস্তবিক, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে যায় ১৩০০ টাকা। এর পর এভাবেই অল্প পরিমাণ টাকা আরও বার কয়েক বিনিয়োগ করেন তিনি। প্রতিবারই ৩০-৪০ শতাংশ হারে ফেরতও পেয়ে যান, এবং প্রতিবারই একটু একটু করে বাড়তে থাকে বিনিয়োগের পরিমাণ। এর পর একবারে ৩০ হাজার টাকা জমা করতে বলা হয় তাঁকে, কিন্তু এবার আর কিছু ফেরত আসে না। বরং নির্দেশ আসে, ১.৫ লাখ টাকা দিলে আগের টাকা ফেরত পেয়ে যাবেন তিনি। বলা বাহুল্য, কিছু আসে না।

এবার বলা হয়, আরও ৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে আগের টাকা সমেত সব ফেরত এসে যাবে, কিন্তু এবারও নিটফল দাঁড়ায় শূন্য। এখানেই শেষ নয়। এবার দাবী আসে ১০ লাখ টাকার, যা দিলে শুধু আকাশছোঁয়া কমিশনই নয়, আগের সব টাকাও নাকি ফেরত পেয়ে যাবেন তিনি। তবে অবশেষে জালিয়াতির গন্ধ পেয়ে এবার তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করেন।

মোট ৪.৮০ লাখ টাকা খুইয়ে সাউথইস্ট ডিভিশনের সাইবার শাখায় অভিযোগ জানান তিনি, এবং তদন্তে নেমে সার্জেন্ট রাহুল বোস প্রথমেই দ্রুত ‘ফ্রিজ’ করিয়ে দিতে সক্ষম হন সেইসব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, যেগুলিতে টাকা জমা করেছিলেন অভিযোগকারী। রাহুলের রিপোর্টের ভিত্তিতে এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কগুলিকে আদালত নির্দেশ দেন, এইসব অ্যাকাউন্ট থেকে ফিরিয়ে দিতে হবে অভিযোগকারীর খোয়া যাওয়া টাকা, যার ফলে বর্তমানে ৩.৭৫ লাখ টাকা ফেরত এসে গিয়েছে তাঁর কাছে।

আরও একবার বলা, সন্দেহ করুন। ইউটিউব ভিডিওতে লাইক দিলেই কেউ ৫০ টাকা দিতে চাইলে ধরেই নিন, ডাল মে কুছ কালা হ্যায়!

তথ্য সৌজন্য : কলকাতা পুলিশ

Latest Update