WIKI KOLKATA

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে নয় সমগ্র ভারতের কাছে এক ঐতিহাসিক স্মৃতিসৌধ

8.83K পর্যটন 1 year ago

রিয়া রায়: ১৯০১ সালে গ্রেট বিটেনের রানী মারা যান।গ্রেট ব্রিটেনের রানীর উদ্দেশ্যেই তৎকালীন ভারসরই লর্ড কার্জন ভারতের সেইসময়কার রাজধানী কলকাতার বুকে একটা বিশালাকার স্মৃতিসৌধ বানানোর নির্দেশ দেন যেখানে একটি সংগ্রহশালা ও বাগান থাকবে।এই স্থাপত্যের জন্যে অর্থের যোগান এসেছিলো ব্রিটিশ সরকারের তরফ থেকে এবং ব্যাক্তিগত ভাবে কয়েকজন অর্থের সহায়তা করেছিলেন। লর্ড কার্জন সকলের কাছে আবেদন করেছিলেন মন থেকে যে কেউ অর্থ প্রদান করতে চাইলে করতে পারে। সেই সময় স্মৃতিসৌধটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছিলো ১কোটি ৫লক্ষ টাকা। রাজস্থান থেকে আনা মাকরান মার্বেল পাথর দিয়ে নির্মিত এই স্মৃতিসৌধের মধ্যে ব্রিটিশ ও মুঘল স্থ্যাপত্যরিতীয় মিলেমিশে একাকার হয়েগেছে।

১৯২১ সালে ভিক্টরিয়া মেমোরিয়াল নির্মাণ কার্য শেষ হলে তা জনসাধারণের জন্যে খুলে দেওয়া হয়েছিলো।তৎকালীন Royal institute of british architect-এর প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম এমারসন ভিক্টরিয়া মেমোরিয়াল হল নির্মাতার মুখ্য নির্মাতা ছিলেন। স্কটিশ উদ্ভিদ বিজ্ঞানী স্যার ডেভিড প্রেইন এবং লর্ড বেডেসোডেলকে সৌধ সংলগ্ন বাগান নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো।

ভিক্টরিয়া মেমোরিয়াল যেন কোন এক স্বপ্নপুরীর প্রাসাদ।অসাধারণ শিল্প স্থাপত্যের নমুনা দেখা যাবে প্রতিটি প্রান্তে। তার সঙ্গে রয়েছে সুদৃশ্য সংরক্ষিত বাগান ভিন্ন ঋতুতে যার ভিন্ন ভিন্ন সৌন্দর্য প্রকাশ পায়। প্রায় 200 ফুট উঁচু সৌধের চূড়ায় থাকা ব্রোঞ্চের পরী আজও কার অপেক্ষায় দিন গোনে? কলকাতা এগিয়ে চলেছে নিজের স্রোতে কিন্তু সেই পরী কোনো এক গোপন দুঃখে তার ঘোরা থামিয়ে দিয়েছে। সূর্যাস্ত হলেই বাগানের পাশের ঝিল থেকে এক অপরূপ শোভা ফুটে ওঠে।চারিদিকে সুরম্য মূর্তি সৌধ কত শত তৈলচিত্র,প্রাচীন নিদর্শন সব মিলিয়ে আভিজাত্যের আর ইতিহাসের যৌথ আয়োজন যেন।

ভিক্টরিয়া মেমোরিয়ালে ৬৪ একরের জমির উপর একটি বাগান রয়েছে। বাগানে ভিক্টরিয়ার একটি ব্রোঞ্চের মূর্তি রয়েছে। এছাড়াও বাগানে আরো বহু ব্রিটিশ প্রশাসকদের মূর্তি রয়েছে। বাগানে প্রায় ৮০ রকম প্রজাতির গাছপালা রয়েছে,৬টি জলাশয় এবং বসার জন্য অনেক গুলো বেঞ্চ রয়েছে।

তাজমহলের মতো ভিক্টরিয়া মেমোরিয়ালে একটি বড় গম্ভুজ অষ্টভুজাকৃতির ছত্রী। সোপান এবং চার কোনে রয়েছে চারটি গম্ভুজাকার টাওয়ার।ভিক্টরিয়া মেমরিয়ালের মাঝখানের গম্ভুজে রয়েছে angle of victory একটি মূর্তি। আর এর চারপাশে রয়েছে বেশ কিছু রূপক ভাস্কর্য। যেমন আর্ট, আর্কিটেকচার, জাস্টিস, চ্যারিটি, মাদারহুড ইত্যাদি নামাঙ্কিত মন্দির গুলো।

ভিক্টরিয়া মেমোরিয়াল হলের ভেতর রয়েছে মোট ২৫ টি গ্যালারি যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রয়াল গ্যালারি, সেন্ট্রাল হল,পোট্রেট গ্যালারি,ন্যাশনাল লিডার গ্যালারি ইত্যাদি এবং নবতম সংযোজন হলো কলকাতা গ্যালারি।

ভিক্টরিয়া গ্যালারিতে রানী ভিক্টরিয়া এবং প্রিন্স এলবার্টের বিভিন্ন প্রতিকৃতিও আছে। এছাড়াও আছে কিছু বই যেখানে তাদের জীবনকাহিনীর উল্লেখ পাওয়া যায়।রয়েছে রানী ভিক্টরিয়ার ছোটবেলার গোলাপ কাঠের তৈরি পিয়ানো এবং তার ডেস্ক। ন্যাশনাল লিডার্স গ্যালারিতে রয়েছে ভারতের ব্যক্তিত্ব এবং রাজনৈতিক নেতাদের জন্য আঁকা প্রতিকৃতি ও কর্মকান্ডের ছবির সংগ্রহ। কলকাতা গ্যালারিতে দেখানো হয়েছে কলকাতা শহরের ইতিহাস এবং অগ্রগতি। যখন কলকাতা থেকে দিল্লিতে রাজধানী স্থানাতর করা হয়েছিলো তার আগে পর্যন্ত কলকাতার চিত্র খুঁজে পাওয়া যায় এই গ্যালারিতে।

দেশীয় রাজাদের ও ব্রিটিশ অফিসারদের ব্যবহার করা অস্ত্রের সংগ্রহ রয়েছে। বিভিন্ন রকম যুদ্ধের তলোয়ার,কুঠার,বর্শা, বন্দুক সংগ্রহ করা রয়েছে।

নবাব সিরাজোদৌল্লার ব্যবহারের তলোয়ারও এখানে দেখতে পাওয়া যায়। নানা রকমের মুদ্রা সংগ্রহীত রয়েছে এই খানেই।

আরো অনেক অনেক ইতিহাসের সম্ভার রয়েছে এই ভিক্টরিয়াতেই।

——————————————————————————————-

ভিক্টরিয়া মেমোরিয়াল মিউজিয়াম এর প্রবেশ মূল্য মাত্র ৩০ টাকা করে মাথাপিছু।

সোমবার এবং অনন্য জাতীয় ছুটির দিন গুলো বাদ দিয়ে এই মিউজিয়াম সারা সপ্তাহ জুড়ে খোলা থাকে।

ভিক্টরিয়া মেমোরিয়াল মিউজিয়ামের ঢোকার সময় চেকিং করে ঢোকানো হয়।

মিউজিয়ামের কিছু কিছু জায়গা বাদ দিয়ে,সব জায়গায় ছবি তুলতে দেওয়া হয়না এটা আইনত নিষিদ্ধ।

মিউজিয়ামের ভেতরে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।

——————————————————————————————-

ভিক্টরিয়া মেমোরিয়াল হলে লাইট and সাউন্ডের এক আকর্ষণীয় প্রদর্শনী হয় যেখানে কলকাতার ঐতিহ্য এবং ইতিহাস তুলে ধরা হয়।

বাংলা ও ইংরেজী দুটি ভাষাতেই এই প্রদর্শনী দেখানো হয়।

বাংলা ভাষার প্রদর্শনীএর জন্যে ১০ টাকা এবং ইংরেজী ভাষার জন্য 20 টাকা লাগে।

সোমবার এবং অন্যান্য জাতীয় ছুটির দিন গুলো বাদ দিয়ে সব দিনেই এই প্রদর্শনী দেখানো হয়।

——————————————————————————————–

যাবেন কীভাবে?

কলকাতা শহরের যেকোন স্থান থেকে বাস ধরে ময়দান বা রবীন্দ্র সদনে নেমে একটু পায়ে হেটে গেলেই চোখে পড়বে ভিক্টরিয়া মেমোরিয়াল।

ছবি সৌজন্য : রিয়া রায়

Latest Update