WIKI KOLKATA

মেয়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত, চোখের নিমেষে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও টাকা ; উদ্ধার করলো কলকাতা পুলিশ

4.56K খবরে কলকাতা 1 year ago

মেয়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত, তার চিকিৎসার জন্য তিল তিল করে লক্ষাধিক টাকা জমিয়েছিলেন বাঁশদ্রোণীর এক বাসিন্দা। পেশায় নামী খাবার ডেলিভারি সংস্থার কর্মী, পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। স্ত্রী ও দুই কন্যা নিয়ে এমনিতেই অত্যন্ত টানাটানির সংসার। মোটরসাইকেল কেনার সামর্থ্য নেই, তাই সাইকেলে চেপে বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দেন, পরিবর্তে সপ্তাহান্তে সামান্য পারিশ্রমিক আসে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে।

হঠাৎই দেখেন, এক সপ্তাহে পারিশ্রমিক বাবদ বেশ খানিকটা টাকা কম ঢুকেছে অ্যাকাউন্টে। প্রতি সপ্তাহের পরিকল্পনা, খরচ, সঞ্চয়, সবটাই ওই পারিশ্রমিক নির্ভর। ফলে দুশ্চিন্তায় বিভ্রান্ত হয়ে গত ১৮ জানুয়ারি তিনি অভিযোগ জানানোর জন্য গুগল সার্চ করে আপাতদৃষ্টিতে খাবার ডেলিভারি সংস্থার হেল্পলাইন নম্বর বের করেন।

এর পরের ঘটনা আন্দাজ করতে পারছেন অনেকেই। গুগল থেকে প্রাপ্ত নম্বরে ডায়াল করলে ফোনের ওপার থেকে পারিশ্রমিকের বাকি টাকা পেয়ে যাওয়ার ভরসা দেওয়া হয় এবং তার জন্য গুগল প্লেস্টোর থেকে একটি অ্যাপ, যেটি আদতে একটি রিমোট অ্যাক্সেস অ্যাপ, ডাউনলোড করানো হয় ওই ডেলিভারি কর্মীর মোবাইলে এবং বলা হয়, অ্যাপে তাঁর ফোন নম্বরের শেষ পাঁচটি সংখ্যা লিখে পাঠিয়ে দিলেই পারিশ্রমিকের বাকি টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে।

সেই পাঁচটি সংখ্যা দু’বার পাঠান ডেলিভারি কর্মী। এবং রিমোট অ্যাক্সেস অ্যাপের সাহায্যে ‘ক্লোন’ হয়ে যায় তাঁর নম্বর, যার ফলে তাঁর ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ডের হদিসও পেয়ে যায় প্রতারক। টাকা আসার বদলে চোখের নিমেষে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে যায় ১ লক্ষেরও বেশি টাকা। এরপর ক্রেডিট কার্ড দিয়ে আরও ১৭ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়।

এক বিপদ থেকে উদ্ধার পেতে গিয়ে আরও বড় বিপদে পড়ে দিশেহারা ডেলিভারি কর্মী ছোটেন থানায়, এবং সেখান থেকে সাউথ সাবার্বান ডিভিশনের সাইবার সেলে। আনন্দের সঙ্গে জানাই, এখন পর্যন্ত ৯৬ হাজার টাকা উদ্ধার করতে পেরেছি আমরা। বাকি টাকার খোঁজ চলছে।

তদন্তে ছিলেন এসএসডি সাইবার সেলের সার্জেন্ট সঞ্জয় সাহা ও বাঁশদ্রোণী থানার সাব-ইনস্পেকটর অজয় চৌরাসিয়া সহ একটি দল। প্রযুক্তির সাহায্যে জানা যায়, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কোথায় গেছে। এবং তদন্তকারী টিমের অক্লান্ত পরিশ্রমে টাকার সিংহভাগ ফেরত আসে। কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন ওই ডেলিভারি কর্মী।

গুগলে কাস্টমার কেয়ার নম্বর পেয়ে কখনওই কোথাও ফোন করা উচিত নয়। জালিয়াতরা প্রায়ই নামী কোম্পানির কাস্টমার কেয়ার নম্বর হিসেবে নিজেদের ফোন নম্বর গুগলে আপডেট করে দেয়। তার ফলেই জালিয়াতির শিকার হন প্রচুর মানুষ। একমাত্র সংস্থার নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকেই কাস্টমার কেয়ার নম্বর নেওয়া শ্রেয়।

ছবি রইল বাঁশদ্রোণী থানার সাব ইনস্পেক্টর অজয় চৌরাসিয়ার, সাউথ সুবার্বান ডিভিশনের সাইবার সেলের সার্জেন্ট সঞ্জয় সাহা, কনস্টেবল কাকলি পাল, হারাধন রায়, লালটু হালদার, হাসিবুর রহমান মোল্লা, জাহাঙ্গীর মণ্ডল, কর্ণ দাস, শুভঙ্কর সাধুখাঁ, শুভ চক্রবর্তী, বিপ্লব দাস ও সিপিসি স্টাফ তীর্থঙ্কর সাহার।

তথ্য সূত্র : কলকাতা পুলিশ

Latest Update