WIKI KOLKATA

মুভি রিভিউ: এইত্তো এই ছবিই বাঙালি চাইছে বস !

198 বিনোদন 2 years ago

নীলাভ: ছবিটা দেখে এসেছি তাও প্রায় চারদিন হতে চললো। রিভিউ লেখার শখ কোনোদিনই নেই, কিন্তু মনে হলো — এই ছবির প্রচার যদি হল ফেরত দর্শকেরাই ঠিকমতো না করি, চরম অন্যায় হবে।
টলিউডে মূল দুটো সমস্যা কী জানেন? এক, গন্ডাখানেক অবাঙালি-প্রযোজক বিজনেস করতে নেমে ধরতেই পারছেনা বাঙালি ঠিক কী ধরনের ছবি এখন চাইছে! দুই, প্রায় সব ছবিতেই একই মুখদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ইউজ করা ( উদাহরণ, গত দু’বছর ধরে ঈশা সাহার চাঁদপানা মুখ আর একেনবাবুর টেকো মাথা – ওয়েব সিরিজ থেকে সিনেমা সবেতেই দেখে দেখে আমাশায় ধরে গেছে )
বহুদিন পর সেদিন “বল্লভপুরের রূপকথা” দেখে চেঁচিয়ে বলে উঠতে ইচ্ছে করছিলো — “এইত্তো, এইত্তো এই ছবিই বাঙালি চাইছে বস! এটা তুমি আগে বুঝবা না?”
“সপরিবারে হইহই করে দেখার মতো ছবি” — কথাটা শুনলে অনেক পেছনপাকা আঁতেলকে খুকখুক করে হাসতে দেখি, কিন্তু এই জিনিসটাই যে টলিউডকে দিনের পর দিন টেনে এনেছে সেটা বোঝার মতো স্পেস তাদের মেমোরিকার্ডে নেই। দুঃখের বিষয়, সিনেমার “সাবলীল” হওয়ার চক্করে ধীরে ধীরে হাপিশই হয়ে যাচ্ছিলো এই জিনিসটা টলিউড থেকে। তরুণ মজুমদারের পর ঐ এক শিবপ্রসাদের ‘বৃদ্ধাশ্রম-গোত্রীয়’ সিনেমাগুলো ছাড়া আর তেমন সপরিবারে দেখার মতো সিনেমা কি বাংলায় হয়েছে?
এবার হলো, অনেকদিন পর । নাম “বল্লভপুরের রূপকথা”। এই ছবি “Book my show” তে সিঙ্গেল টিকিট কেটে দেখতে যাওয়াটা বেকার, একা হেসে কী মজা পাবেন? দেখতে হলে লাইন ধরে সাত আটজনের টিকিট কাটুন, তারপর দুপুরে মাংস দিয়ে একথালা ভাত সাঁটিয়ে হাল্কা শীতে দলবেঁধে চলে যান। সঙ্গে পট্যাটো চিপস নিন, পারলে বিটনুন দেওয়া বাদামভাজা আর স্প্রাইট। তারপর নিজেই বুঝুন, বাংলাতে ভালো সিনেমা হয় কি হয়না
ছবিতে সবচেয়ে ভালো লাগা কয়েকটা বিষয় :
(১) পরিচালক বারবার যেন বোঝাতে চেয়েছেন, এ ছবিতে তাঁর কোনো কৃতিত্ব নেই। সবটাই নাট্যকার বাদল সরকারের সৃষ্টি। গোটা টাইটেলকার্ড এভাবে স্রষ্টাকে উৎসর্গ করে বানাতে আগে কোনো ছবিতে দেখিনি
(২) এর গান আর লিরিক্স। অনেকদিন পরে হল থেকের বেরিয়েও কোনো সিনেমার গানের সুর গুনগুন করতে ইচ্ছে করবে।
(৩) অপরিচিত মুখদের জয়জয়কার। একমাত্র নায়িকার চরিত্রে সুরঙ্গনাকে বাদ দিয়ে আর কোনো মুখকেই আপনি থিয়েটার ছাড়া কোথাও দেখেননি। তাই একই আর্টিস্টদের পর্দায় দেখার একঘেয়েমি বিন্দুমাত্র নেই। আর অভিনয়ের ব্যাপারে সবাই যেন সবাইকে জোরসে টক্কর দিয়ে গেলো। বিশেষ করে মনোহরের চরিত্রে প্রৌঢ় শ্যামলবাবুর অভিনয় দেখে মনে হলো, “এত বছর এই মানের একজন অভিনেতাকে কেউ সিনেমায় ব্যবহার করলোনা?? আশ্চর্য!! “
(৪) এর সিনেমাটোগ্রাফি! সৌমিক হালদারের ক্যামেরা কি অনির্বাণ ভট্টাচার্যর সিনেমা/সিরিজে এনার্জি ক্যাপসুল খেয়ে খেলতে নামে?
আর হ্যাঁ, এই ছবি কিন্ত “তাম্বাকু সেবনের” সেই বিচ্ছিরি অ্যাড-টার পরেই অজান্তে পটাং করে শুরু হয়ে যায়, তাই কান খাঁড়া করে থাকবেন। আর ভুলেও ছবির শেষ দৃশ্য হয়ে যেতেই টয়লেটে ছুটবেননা। কারন শেষের ঐ এন্ডিং-কার্ড, যা কোনো ছবিতে আমরা দেখিনা সেটা এই ছবির অন্যতম আকর্ষণীয় বস্তু। এ জিনিস বাংলায় কখনো দেখেননি।

Latest Update